Posts

Showing posts from October, 2019

বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন

বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্নঃ বিরাম চিহ্ন :  বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য বাক্য উচ্চারণের সময় বাক্যের মাঝে ও শেষে বিরতি দিতে হয়। এই বিরতির পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি হয়ে থাকে। আবার বাক্য উচ্চারণের সময় বিভিন্ন আবেগের জন্য উচ্চারণ বিভিন্ন হয়ে থাকে। বাক্যটি লেখার সময় এই বিরতি ও আবেগের ভিন্নতা প্রকাশ করার জন্য যেই চিহ্নগুলো ব্যবহার করা হয়, তাদেরকে বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন বলে। প্রাচীন বাংলায় মাত্র দুইটি বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করা হতো, দাঁড়ি (।) ও দুই দাঁড়ি (॥)। পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ইংরেজি ভাষার অনুকরণে বাংলায় আরো অনেকগুলো বিরাম চিহ্ন প্রচলন করেন। বর্তমানে ব্যবহৃত বিরাম চিহ্নগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিরাম চিহ্ন নিচে দেয়া হলো- যতি চিহ্নের নাম আকৃতি বিরতির পরিমাণ কমা , ১ বলতে যে সময় লাগে দাঁড়ি/ পূর্ণচ্ছেদ । এক সেকেন্ড জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নসূচক চিহ্ন ? এক সেকেন্ড বিস্ময়সূচক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন ! এক সেকেন্ড ড্যাস - এক সেকেন্ড কোলন ড্যাস :- এক সেকেন্ড কোলন :...

ণত্ব ও ষত্ব বিধান

ণত্ব ও ষত্ব বিধানঃ ণত্ব ও ষত্ব বিধান স্পর্শধ্বনির তালিকা ণত্ব বিধান বা ণ ব্যবহারের নিয়ম ষত্ব বিধান বা ষ ব্যবহারের নিয়ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন ণত্ব ও ষত্ব বিধান : বাংলা ভাষায় ‘ণ’ ও ‘ষ’-র ব্যবহার তেমন নেই। অর্থাৎ, খাঁটি বাংলা শব্দে বা তদ্ভব শব্দে কখনোই ‘ণ/ ষ’ ব্যবহৃত হয় না। শুধু তাই না, অর্ধ-তৎসম, দেশি বা বিদেশি শব্দেও ‘ণ/ষ’ ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু যে সব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে কোন পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে, সে সব শব্দে সংস্কৃত ভাষার বানান অনুসরণ করার জন্য ‘ণ/ ষ’ ব্যবহার করতে হয়। এইসব তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে ‘ণ/ ষ’ ব্যবহার করার নিয়মকেই বলা হয় ণত্ব ও ষত্ব বিধান। [ণত্ব ও ষত্ব বিধান পড়ার জন্য স্পর্শধ্বনির তালিকাটা জরুরি বলে উচ্চারণ বিধির অন্তর্গত তালিকাটি এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে দেয়া হলো- স্পর্শধ্বনি/ বর্গীয় ধ্বনি ক-বর্গীয় ধ্বনি ক খ গ ঘ ঙ চ-বর্গীয় ধ্বনি চ ছ জ ঝ ঞ ট-বর্গীয় ধ্বনি ট ঠ ড ঢ ণ ত-বর্গীয় ধ্বনি ত থ দ ধ ন প-বর্গীয় ধ্বনি প ফ ব ভ ম ণত্ব বিধান বা ণ ব্যবহারের নিয়ম ...

বাক্য সংকোচন/এক কথায় প্রকাশ

বাক্য সংকোচন/এক কথায় প্রকাশঃ একাধিক পদ বা উপবাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে, তাকে বাক্য সংকোচন, বাক্য সংক্ষেপণ বা এক কথায় প্রকাশ বলে । অর্থাৎ একটিমাত্র শব্দ দিয়ে যখন একাধিক পদ বা একটি বাক্যাংশের (উপবাক্য) অর্থ প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বাক্য সংকোচন বলে । যেমন- হীরক দেশের রাজা- হীরকরাজ এখানে হীরকরাজ- শব্দের মাধ্যমে হীরক দেশের রাজা- এই তিনটি পদের অর্থই সার্থকভাবে প্রকাশ পেয়েছে । এই তিনটি পদ একত্রে একটি বাক্যাংশ বা উপবাক্যও বটে । অর্থাৎ, হীরক দেশের রাজা- তিনটি পদ বা বাক্যাংশটির বাক্য সংকোচন হল- হীরকরাজ । কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন/এক কথায় প্রকাশ অকালে পেকেছে যে- অকালপক্ক্ব অক্ষির সম্মুখে বর্তমান- প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অভাব আছে যার- অনভিজ্ঞ অহংকার নেই যার- নিরহংকার অশ্বের ডাক- হ্রেষা অতি কর্মনিপুণ ব্যক্তি- দক্ষ অনুসন্ধান করবার ইচ্ছা- অনুসন্ধিৎসা অনুসন্ধান করতে ইচ্ছুক যে- অনুসন্ধিৎসু অপকার করবার ইচ্ছা- অপচিকীর্ষা অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে কাজ করে যে- অবিমৃষ্যকারী অতি শীতও নয়, অতি উষ্ণও নয়- নাতিশীতোষ্ণ অবশ্য হবে/ঘটবে যা- অবশ্যম্ভাবী অতি ...

প্রকৃতি-প্রত্যয়

প্রকৃতি-প্রত্যয় প্রাতিপদিক ক্রিয়ামূল বা ধাতু প্রকৃতি প্রত্যয় নাম প্রকৃতি ক্রিয়া প্রকৃতি কৃৎ প্রত্যয় তদ্ধিত প্রত্যয় কৃদন্ত পদ তদ্ধিতান্ত পদ গুণ বৃদ্ধি ইৎ কৃৎ প্রত্যয় বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন [বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের কিছু বিশেষ কৌশল আছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- সমাস, সন্ধি, উপসর্গ যোগে ও প্রত্যয় সাধিত হয়ে শব্দ গঠন।] [মূলত শব্দমূল বা প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। এটি নতুন শব্দ গঠনের অন্যতম কৌশল। অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যয়সাধিত শব্দের প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠনের প্রক্রিয়া সন্ধির সঙ্গে মিলে যায়।] [প্রত্যয়সাধিত হয়ে সবসময় নামপদ তৈরি হয়।] প্রাতিপদিক : বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে। নামপদের যেই অংশকে আর বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, তাকেই প্রাতিপদিক বলে। যেমন- ‘হাত’। এই নাম শব্দের সঙ্গে কোনো বিভক্তি নেই। এর সঙ্গে ‘আ’ যুক্ত করে নতুন শব্দ ‘হাতা’ তৈরি করা যেতে পারে। এটিও একটি নাম শব্দ। ...